বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা ২০৫০ সাল পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। পাশাপাশি এ সময় বিশ্বে দ্রুত পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে রূপান্তর ঘটবে বলে মনে করছে সংস্থাটি। আইইএর প্রকাশিত বার্ষিক ওয়ার্ল্ড এনার্জি আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে দেশে জ্বালানি খাতে বিদ্যমান নীতিমালা অপরিবর্তিত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের চাহিদা দাঁড়াতে পারে দৈনিক ১১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেলে। এটি ২০২৪ সালের মোট ব্যবহারের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে মোট চাহিদা বাড়বে প্রায় ১৫ শতাংশ। খবর রয়টার্স।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এ পূর্বাভাস বিভিন্ন দেশে বিদ্যমান জ্বালানি নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ এখানে জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনের প্রতিশ্রুতি নয়; বরং বাস্তবে কার্যকর নীতিগুলো বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।
আইইএ ২০১৯ সালের পর প্রথমবার এ ধরনের প্রক্ষেপণ প্রকাশ করল। ২০২০ সাল থেকে সংস্থাটি মূলত পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে রূপান্তর ও নিট শূন্য কার্বন নিঃসরণ অর্জনের লক্ষ্যনির্ভর পূর্বাভাস দিয়ে আসছিল।
আইইএ জানিয়েছে, সংস্থাটি ২০৩১-৩৫ মেয়াদের নতুন জলবায়ু লক্ষ্য পর্যালোচনার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু খুব কম দেশই এখন পর্যন্ত সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা জমা দিয়েছে। ফলে একটি অর্থবহ বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়নি।
বার্ষিক ওয়ার্ল্ড এনার্জি আউটলুকের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরে নতুন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রকল্পে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩০ হাজার কোটি ঘনমিটার নতুন বার্ষিক এলএনজি রফতানি সক্ষমতা চালু হবে, যা বিদ্যমান সরবরাহের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি।
বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী বৈশ্বিক এলএনজি বাজার ২০২৪ সালের ৫৬ হাজার কোটি ঘনমিটার থেকে বেড়ে ২০৩৫ সালে ৮৮ হাজার কোটি এবং ২০৫০ সালে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি ঘনমিটারে পৌঁছতে পারে। এ বৃদ্ধির পেছনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিদ্যুৎ চাহিদা, বিশেষ করে ডাটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের সম্প্রসারণ বড় ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
আইইএ জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ডাটা সেন্টার খাতে বিনিয়োগ পৌঁছতে পারে ৫৮ হাজার কোটি ডলারে, যা জ্বালানি তেল উত্তোলন খাতে বছরে গড় ব্যয় ৫৪ হাজার কোটি ডলারের চেয়েও বেশি।
তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে, সব ধরনের পরিস্থিতিতেই বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রম করবে। কেবল নিট শূন্য নিঃসরণ অর্জনের পথে কার্বন অপসারণ প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।